বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সেই শিশু আখিঁ ও আলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান খান। শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রে “বয়স কম, দায়িত্ব বেশি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। হাসপাতালে ভর্তি দুই বছরের অসুস্থ্য আখিঁর পাশে বসে থাকা নয় বছরের আলো তাকে দেখভাল করছিল। গরীব পরিবারের এ করুন কাহিনী পত্রপত্রিকা ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হলে কালীগঞ্জ থানায় ওসি মিজানুর রহমান খান হাসপাতালে অসুস্থ্য আঁখির চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন চিকিৎসা নিয়ে তারা সকালে বাড়ি ফিরে গেছে।
শনিবার দুপুরে তিনি পশু হাসপাতাল পাড়ায় অবস্থিত আখিঁ ও আলোর বাড়িতে (অন্যের জায়গা ভাড়া নিয়ে তৈরি করা টিনের ছাবড়া) তাদের দেখতে যান। সে সময় তিনি আঁখির চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ ও তাদের নতুন পোশাক উপহার দেন।
অপরদিকে, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী, আখিঁ ও আলোর মা নাজমা বেগমকে একটি বিধবা ভাতার কার্ড করে দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া আঁখি ও আলোকে সহযোগিতা করার জন্য অনেকে সাড়াও দিয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বলেন, সকালে অফিসে এসে সংবাদটি পড়ে এবং শিশু দু’টির ছবি দেখে অনেকটা আবেগপ্লুত হয়ে পড়ি। বিষয়টি হৃদয়স্পর্শী ও বেদনাদায়ক। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাদের জন্য কিছু করতে পেরে ভাল লাগছে।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, সংবাদটি পড়ে আমি হাসপাতালে লোক পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বাড়ি চলে গেছে। আমি তাদের মা নাজমা বেগমকে একটি বিধবা ভাতার কার্ড করে দিব।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পেটে ব্যাথা করছিলো দুই বছর বয়সী শিশু আঁখির। শুক্রবার সকালে মা নাজমা বেগম আঁখিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সাথে আলোও আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক অরুন কুমার আঁখিকে সেখানে ভর্তি করে নেন। নাজমা বেগম শহরের বিভিন্ন দোকানে পানি দেওয়াসহ বাসা বাড়িতে কাজ করে। সে সময় হাসপাতালের বেডে ছোট্র দুই বছরের আঁখির পাশে সারাদিন তাকে দেখভাল করেন নয় বছরের আলো।